“পরম করুণাময় আল্লাহ্'র নিকট একটি বিশেষ মুনাজাত”
(যে কোন স্থানে বসে করা যায়)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম
হে দয়াময়, পরম করুণাশীল, ক্ষমাশীল আল্লাহ্! আমি তোমার এক নগণ্য গুনাহ্গার বান্দা (বান্দি), তোমার মহান দরবারে হাত তুলেছি।
হে আল্লাহ্! তুমি পূতঃপবিত্র, সকল প্রশংসা তোমারই প্রাপ্য। তুমি ব্যতীত আমাদের কোন মাবুদ নেই। তুমিই সর্বশ্রেষ্ঠ। পাপ পরিহার এবং ইবাদত বন্দেগীর শক্তি একমাত্র তোমারই দেওয়া। আমাদের দয়াল নবী মোহাম্মদ (সঃ) তোমারই প্রেরিত রসূল ও বান্দা।
হে পরওয়ারদিগার! “ঈমানকে” আমার নিকট পৃথিবীর অন্য সব কিছু থেকে অধিকতর প্রিয় করে দাও। আর তার সৌন্দর্যকে আমার অন্তরে দৃঢ়ভাবে বসিয়ে দাও। আমার অন্তরে কুফরী, নাফরমানী ও অন্যায়ের প্রতি ঘৃণার সৃষ্টি করে দাও। আর আমাকে সঠিক ও সৎপথ প্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত করে দাও।
হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে সেই মহা দিবসের শাস্তি থেকে রক্ষা করো, যে দিনর তুমি তোমার সকল বান্দাদেরকে কবর থেকে জিন্দা করবে। হে দয়াময়! সে দিন হিসাব নিলে আমার কোন উপায় থাকবে না। অত্রএব, একান্ত অনুগ্রহ করে কোন হিসাব নিকাশ ছাড়াই তুমি আমাকে জান্নাতে দাখিল করো।
হে আল্লাহ্! তোমার সত্তা ও শক্তি সম্পর্কে আমার কোন রূপ সন্দেহ সৃষ্টি হওয়া থেকে এবং তোমার সাথে কাউকে শরীক মনে করা থেকে পানাহ থেকে পানাহ চাচ্ছি। আরো পানাহ চাচ্ছি তোমার আদেশ-নির্দেশের বিরোধিতা করা থেকে এবং কপটতা, কুস্বভাব ও কুদৃষ্টি থেকে। আর ধন-জন ও সন্তান-সন্ততির অনিষ্টতা ও ধ্বংস হওয়া থেকে।
হে করুণাময়! আমার নেক আমলের প্রচেষ্টাকে সফল কর আর আমার গুনাহ্ সমূহকে মাফ কর। আমার নেক আমলকে দয়া করে কবু কর। আমাকে হায়াতে তৈয়্যেবা নসীব কর এবং বেশী বেশী নেক আমল করার তাওফীক দাও।
হে অন্তর্যামী! আমাকে হালাল রুজি দিয়ে হারাম থেকে বাঁচাও, তোমার দেওয়া রুজিতে আমাকে তৃপ্তি দাও, বরকত দাও তোমার দেওয়া নেয়ামতে। তোমার করুণা দিয়ে অন্যের দ্বারস্থ হওয়া থেকে আমাকে রক্ষা কর।
হে অসীম ক্ষমাশীল! রোজ কেয়ামতের দিন তোমার আরশের ছায়ায় আমাকে আশ্রয় দিও। যে দিন তোমার আরশের ছায়া ছাড়া আর কোন ছায়া থাকবে না এবং তুমি ছাড়া আর কোন কিছুরই অস্তিত্ব থাকবে না। হে আল্লাহ্! পান করাইও আমাকে তোমার নবীর হাউজে কাউছার থেকে সুশীতল ও সুস্বাদু পানীয়, যেন এর পর আর পিপাসা না হয়।
হে দয়াময়! তোমার কাছে চাই ঐ সব কল্যাণ, যা চেয়েছিলেন আমাদের নবী মোহাম্মদ (সঃ)। আর পানাহ্ চাই তোমার কাছে ঐসব অকল্যাণ থেকে, যে জন্য পানা চেয়েছিলেন আমাদের নবী মোহাম্মদ (সঃ)।
হে সৃষ্টিকর্তা! তোমার কাছে চাই সেই কথা, কাজ ও আমলের সামর্থ্য, যা আমাকে জান্নাত লাভে সাহায্য করবে। আর পানাহ চাই জাহান্নাম থেকে এবং সেই কথা, কাজ ও আ’মল থেকে, যা আমাকে দোযখে পৌঁছতে সাহায্য করবে।
হে সর্বশক্তিমান! হে প্রতিপালক তোমার কাছ থেকে দৃঢ় ঈমান, পর্যাপ্ত রিজিক, তোমার ভয়ে ভীতিপূর্ণ অন্তর, তোমার স্মরণে লিপ্ত জিহ্বা, পাক হালাল উপার্জন, সত্যিকার তওবা, মরণের আগে তওবা, মরণকালে শান্তি ও মার্জনা, মৃত্যুর পর রহমত, কবরের আযাব থেকে মুক্তি, হিসাবের সময় রেহাই, বেহেশ্ত লাভে সাফল্য, দোযখ থেকে নাজাত চাচ্ছি।
হে করুণাময়! বাঁচাও আমাদেরকে, আমাদের মা-বাবা, ভাই-বোন, সকল মুরব্বী এবং সন্তানদেরকে দোযখের আগুন থেকে। হে মেহেরবান আল্লাহ! আমাদের সব কাজের পরিণামকে কর সুন্দর। রক্ষা কর আমাদেরকে দুনিয়ার অপমান এবং আখেরাতের আযাব থেকে।
হে চির মেহেরবান! তোমার কাছে প্রার্থনা, কবুল কর আমার ইবাদত, নামিয়ে দাও আমার পাপের বোঝা, ফয়সালা করে দাও আমার সব কাজকে, পবিত্র করে আমার অন্তরকে, মাফ করে দাও আমার গুনাহকে। আলোকিত করে দিও আমার কবরকে।
হে মহান দাতা! আমার অন্তর ও বাহির দুইই তুমি জানো, কাজেই আমার অনুশোচনা কবুল কর। তুমি জানো আমার অভাব, কাজেই পূরণ কর আমার প্রার্থনা। তুমি জানো আমার মনের কথা, তাই ক্ষমা কর আমার গুনাহ।
হে আল্লাহ্! তোমার কাছে চাই এমন ঈমান, যা অন্তরে গেঁথে থাকবে। চাই দৃঢ় একীন যেন বুঝতে পারি যে আমার ভাল মন্দ সব কিছু তোমারই ইচ্ছায় হচ্ছে। চাই পূর্ণ সন্তুষ্টি তোমার দেওয়া কিস্মতে।
হে মহিয়ান-গরিয়ান আল্লাহ! তুমি আমার বন্ধু দুনিয়া এবং আখেরাতে। মৃত্যু দিও আমাকে মুসলমান হিসেবে, দাখিল করো আমাকে নেক বান্দাদের দলে। হে আল্লাহ্! আমার সকল গুনাহ্ মাফ করে দাও, সব মুশকিল আছান করে দাও, সকল প্রয়োজন মিটিয়ে দাও, আমার সকল কাজকে সহজ করে দাও, অন্তরকে খুলে দাও, আলোকিত করে দাও আমার আত্মাকে। আর আমার সকল আমলকে নেক আমলে পরিণত করে দাও।
হে দয়াশীল, ক্ষমাশীল আল্লাহ্! তুমিতো তোমার অধম বান্দাদেরকে টেনে টেনে নিয়ে যাবে জান্নাতে। হে আল্লাহ, আমরা পথ হারাবো, তুমি পথ দেখাবে। আমরা ভুল করবো, তুমি শোধরে দেবে। তুমি যে রহীম! তুমি যে রহমান। তোমার দয়া ও ক্ষমা ছাড়া আমাদের কোন উপায় নেই।
রব্বুল আ’লামীন! আমি তোমার পবিত্র কালাম থেকে কিছু অংশ পাঠ করেছি, তাছবীহ-তাহলীল এবং দুরুদ ও সালাম পাঠ করেছি। এর মধ্যে যে সব ভুল ভ্রান্তি হয়েছে, সেগুলি ক্ষমা করে কবুল কর এবং এর হাদিয়াটুকু বহুগুণ বৃদ্ধি করে সর্ব প্রথম আমাদের দয়াল নবী মুহম্মদ (সঃ) এর রওজা পাকে সোনার মদীনায় পৌঁছে দাও। তাঁর দুই সাথী ও শ্বশুর হযরত আবু বকর (রাঃ) এবং হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) এর পবিত্র রূহ-মোবারকে এই ছওয়াবটুকু পৌঁছে দাও। হুজুর (সঃ) এর বংশধর, খুলাফায়ে রাশেদীন, আশারায়ে মোবাশশেরীন, সাহাবায়ে কেরাম, শুহাদায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈনদের আরওয়াহ্ পাকে এই সাওয়াব টুকু পৌঁছে দাও। হযরত আদম (আঃ) হতে আজ পর্যন্ত যব নবী-পয়গম্বর, অলী-আবদাল, গাউস-কুতুব, আওলীয়া-দরবেশ, কামিল-ফকীর, মুমিন-মুসলমান, যাঁরা এ দুনিয়া হতে চলে গেছেন, তাঁদের সকলের রূহ্ মুবারকে এই দু’আ টুকু পৌঁছে দাও। মক্কা শরীফের কবরস্থান জান্নাতুল মা’লা এবং মদীনা শরীফের কবরস্থান জান্নাতুল বাকীতে যে সকল কবরবাসী ঘুমিয়ে আছেন, তাঁদের পবিত্র রূহে এ দুআ’ টুকু পৌঁছে দাও। হে আল্লাহ্! পৃথিবীর সকল ঈমানদার কবর বাসীদেরকে দয়া করে মাফ করে দাও। হে দয়াময়! হুজুর (সঃ) এর কলিজার টুকরা মা ফাতেমা-তুজ-যাহ্রাহ্ (রাঃ) এবং হুজুর (সঃ) এর চোখের মণি হযরত হাসান-হোসাইন (রাঃ) এর আরওয়াহে পাকে এই সাওয়াবটুকু পৌঁছে দাও।
হে সর্বশক্তিমান আল্লাহ! তুমি পৃথিবীর সকল মুসলমানদেরকে হেফাজত কর। নির্যাতিত, নিপীড়িত মুসলমানদেরকে রক্ষা কর। সকল মুসলমানদের ঈমানকে বুলন্দ করে দাও। সকলকে নবী (সঃ) এর পতাকাতলে একত্রিত করে দাও। হে আল্লাহ, আমাদের বাংলাদেশকে তুমি হেফাজত কর, দেশ পরিচালনাকারীদেরকে হেদায়েত কর। তোমার নির্দেশিত এবং রসূল (সঃ) এর প্রদর্শিত পথে আমাদেরকে পরিচালিত কর।
হে দয়াময়! তোমার নিকট আমি গুনাহ্গারের বিশেষ ফরিয়াদ এই যে, আমার মা-বাবা, দাদা-দাদী, নানা-নানী, শ্বশুর-শাশুড়ী, এবং সকল আত্মীয়-স্বজনদের পবিত্র রূহে এ সাওয়াবটুকু পৌঁছে দাও এবং এ সাওয়াবটুকু তাঁদের নাজাতের অসীলা বানিয়ে দাও।
হে আল্লাহ্! রোজ কেয়ামত পর্যন্ত তাঁদের কবর আযাব মাফ করে দাও। তাঁদের কবরকে তোমার নূরের আলো দ্বারা আলোকিত করে দাও। তাঁদের জীবদ্দশায় যে সব গুনাহ্খাতা হয়েছে, তোমার রহমান ও গফ্ফার নামের বরকতে মাফ করে দাও।
হে আল্লাহ্! আমরা যারা বেঁচে আছি, আমাদেরকে এ ফিৎনা-ফাসাদের যুগে সর্ব প্রকার অন্যায়, পাপাচার ও গুণাহের কাজ থেকে হেফাজত কর। মরদুুদ শয়তানের ধোঁকা হতে আমাদেরকে মাহ্ফুজ রাখো। আমাদেরকে বেশী বেশী নেক আমল করার তাওফীক দাও। হে ক্ষমাশীল আল্লাহ্! সবশেষে তোমার নিকট ফরিয়াদ, আমাদের দয়াল নবী রসূলুল্লাহ্ (সঃ) এর তোফায়েলে এবং তোমার করুণা দিয়ে আমার মুনাজাত কবুল কর।
“আমীন, ছুম্মা আমীন”